শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি আওয়ামী লীগ নেতার

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম শহিদুল ইসলাম অন্তর। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম খানের কাছে গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোনে ছাড়াও অফিসে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম অন্তর।

ভূক্তভোগী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কেন এবং কিসের জন্য টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে ওই চেয়ারম্যান তাকে বলেন, এখানে চাকরি করতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতেই হবে। অন্যথায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে লোকজনকে উস্কিয়ে অপমান অপদস্থ করা হবে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি উপজেলা ইউআরসি প্রশিক্ষণ সেন্টার থেকে দুপুরের খাবারের জন্য একটি হোটেলে যান।

এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা সহাকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ইউআরসির ইন্সট্রাক্টর ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। খাওয়া শুরু করার সময় হঠাৎ হোটেলে আসেন অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শহীদ ও তার দলবল।

একপর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট গিয়ে ফের ৫ লাখ টাকা দাবি করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, হোটেলে অবস্থান করা অবস্থাতেই টাকা দিতে না পারলে অবস্থা বেগতিক করে দিব। এ খবর তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে বিষয়টি অল্পসময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচার হয়ে যায়।

পরে সেখানে শিক্ষা অফিসের লোকজন ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছুটে যান। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি দিয়ে হোটেল থেকে কেটে পড়েন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। পরে ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে চাঁদা দাবি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গৌরীপুর উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। আর এই ঘুষ বাণিজ্যের মূলহোতা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম।

অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরও একজন দফতরি নিয়োগের জন্য উনাকে (শিক্ষা কর্মকর্তা) ৭ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। ওই দফতরির চাকরি না হওয়ায় দফায় দফায় টাকা ফেরত চাইছেন তিনি। আজ না কাল দিবেন বলে সময় দিয়েও টাকা ফেরৎ না দেয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে হোটেলে পেয়ে টাকার জন্য আটকিয়ে টাকা ফেরৎ চান ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শী মাছুয়াকান্দার হোটেল ব্যবসায়ী মৃত আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল কাদির ওয়াসিম জানান, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম খান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন ও মোঃ হাদিউল ইসলাম খেতে আসেন। এসময় সেখানে উপস্থিত হন অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক ভিপি শহিদুল ইসলাম অন্তর।

শহিদ চেয়ারম্যান এ সময় বলেন, আপনি টাকা দেবেন বলে ৪-৫টা তারিখ করেছেন। টাকা দেননি, আজ টাকা দিয়েই যেতে হবে। অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে হোটেল আটক আর মারধরের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা ওই হোটেলের দিকে ছুটে যান।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অচিন্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলা হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন।

Comments

comments