আদ জাতি মোকাবেলা করতে পারেনি, আমরা..?

হাসান রূহী

ঘূর্ণিঝড় ফণী ধেয়ে আসছে। এরই মধ্যে ভারতের পুরী, ভুবনেশ্বর-সহ ওড়িশার উপকূল বরাবরের গ্রাম শহর লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সে। লন্ডভন্ড বললেও সেই ধ্বংসলীলার প্রকৃত ছবিটা তুলে ধরা কঠিন। গাছপালা উপড়ে, ভেঙে, বাড়িঘর তছনছ করে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলেছে ফণী। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।

ফণী ধেয়ে আসার পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথেই মিডিয়ায় নিত্য নতুন আপডেট আসছে। আসছে বিভিন্ন রকম পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের খবরও। কিন্তু সেই সাথে এমন কিছু খবরও আসছে যা সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।

গত ১ লা মে’র দৈনিক ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম আমার নজর কেড়েছে। কিন্তু সেই খবরটি পড়ার পর থেকেই নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমরা নিজেরাই আল্লাহ তায়ালার আসমানী গজব আমাদের উপর ডেকে আনছি নাতো?

খবরের শিরোনাম ছিল- ‘ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ।’ এই একই খবর কাছাকাছি শিরোনামে আরও বেশ কয়েকটি পত্রিকা ছেপেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান গত বুধবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মূলত এই খবরে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচা ও তথ্য সংগ্রহের পূর্ব প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে মানুষের পক্ষে কি এসব ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলা করা সম্ভব? সে ক্ষমতা কি আমাদের আছে? আমেরিকার মত উন্নত দেশকেও আমরা হ্যারিকেন ক্যাটরিনা ও হ্যারিকেন রিটার আঘাতে নাস্তানাবুদ হতে দেখেছি। তবে আমরা কেন এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ শব্দচয়ন করছি?

মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা আদ জাতির কথা উল্লেখ করেছেন। বর্ণনা করেছেন কিভাবে তাদের গজব দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব থেকে আদৌ কি আমরা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করছি?

আদ জাতির লোকেরা ছিল উন্নত। নির্মাণশিল্পে তারা ছিল জগৎসেরা। তারা সুন্দর সুন্দর অট্টালিকা ও সুরম্য বাগবাগিচা তৈরি করত। তাই আদদের দেশে সুন্দর বাগান ও ক্ষেত-খামার ছিল। তাদের ‘ইরাম’ নামে যে শহর ছিল তা আর কোথাও ছিল না। জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা যেমন অগ্রসর ছিল, তেমনি সংস্কৃতিতে ছিল অনন্য।

আদ ও সামূদ জাতিদ্বয় অত্যন্ত দীর্ঘকায় ও অহংকারী ছিল। আদ জাতির দৈহিক গঠন ও শক্তি-সাহসে অন্য সব জাতি থেকে স্বতস্ত্র ছিল। কোরআনে তাদের স্বাতস্ত্র্য অতন্ত্য পরিস্কার ভাষায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেঃ এমন দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী জাতি ইতিপূর্বে পৃথিবীতে সৃজিত হয়নি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও মুকাতিল (রহঃ) তাদের উচ্চতা বারো হাত তথা ১৮ ফুট বলে বর্ণনা করেছেন।

এমন দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী জাতি হওয়ার পরেও তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর গজব নাজিল করেন। আর সে গজব থেকে বাঁচার জন্য তাদের শক্তিমত্তা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সুরম্য অট্টালিকা কোনো কিছুই কাজে আসেনি। সাত রাত ও আট দিন ব্যাপী অনবরত ঝড়-তুফান বইতে থাকে। মেঘের বিকট গর্জন ও বজ্রাঘাতে বাড়ী-ঘর সব ধ্বসে যায়, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে গাছ-পালা সব উপড়ে যায়, মানুষ ও জীবজন্তু শূন্যে উত্থিত হয়ে সজোরে জমিনে পতিত হয়। দুনিয়ার জীবন থেকে ইতিহাসের পাতায় স্থান নেয় একসময়ের চরম প্রতাপশালী দাম্ভিক আদ সম্প্রদায়।

আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনদের আহম্মকিপূর্ণ কথা-বার্তা শুনে তাই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে- আদ জাতির মত প্রতাপশালীরা ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেলায় কিছুই করতে পারলো না। সেখানে আমাদের অবস্থান কোথায়? কোন শক্তিবলে আমরা ঘোষণা করি- ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ?

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Comments

comments