বোমা হামলা থেকে বেঁচে গেলেন তারকা ক্রিকেটার

শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের ক্রিকেটার দাসুন শানাকা। ইস্টার সানডেতে নেগোমবোর সেন্ট সেবাস্তিয়ানস চার্চে যাওয়ার কথা ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের। কিন্তু আগে দিন ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে শেষ পর্যন্ত যাননি শানাকা।

কিন্তু শানাকা না গেলেও সেদিন গির্জায় প্রার্থনার জন্য গিয়েছিলেন তার মা ও দাদি। সেই গির্জায় আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়। যাতে আহত হয়েছেন শানাকার মা ও দুজনই। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন দুজনই।

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কাজুড়ে চলা সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা তিন শ ছাড়িয়েছে। আহতর পাঁচ শরও বেশি। ঘনটার বীভৎসতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন শানাকা। হামলার পর মা-দাদিকে খুঁজতে ছোটে গিয়েছিলেন। দুজনেই প্রাণে বেঁচেছেন ঠিক। কিন্তু হামলার যে নৃশংস চিত্র দেখেছেন শানাকা, তা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছেন না তিনি।

শানাক বলেছেন, ‘‘সাধারণত আমার গির্জায় যাওয়ার কথা। তবে আগের দিনই অনুরাধা পুরায় গিয়েছিলাম বলে ক্লান্ত ছিলাম।’’ কিন্তু এর মধ্যেই হামলার শব্দ শুনতে পান শানাকা, ‘‘লোকে বলাবলি করছিল গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। সেখানে ছুটে গিয়ে যা দেখেছি সেটা কোনো দিন ভুলতে পারব না। পুরো গির্জাটা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। লোকে লাশ বের করছিল বাইরে।’’

জাতীয় দলের হয়ে ২৭টি টি টোয়েন্টি, ১৯টি ওয়ানডে ও ৩টি টেস্ট খেলেছেন শানাকা। কীভাবে মা ও দাদিকে উদ্ধার করলেন সেই বিবরণও দিয়েছেন তিনি। মাকে উদ্ধারের কথা জানিয়ে শানাকা বলেন, ‘‘যখন শুনলাম সে ভেতরে ছিল, আমার হৃদয় আসলে ভেঙে গিয়েছিল। কারণ বিস্ফোরণের কারণে যে ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে সেগুলোর তোপেই অনেকে মারাত্মক আহত হয়েছে। আমার মা জানালার কাছে ছিল। একটা দেওয়াল তাকে বিস্ফোরণের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।’’

আর দাদিকে জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন শানাকা, ‘‘দাদির খোঁজ যখন করছিলাম তাকে জীবিত আশা করিনি। মাথায় বোমার শার্পনেল লেগেছে তার। তবে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম আমরা।’’

Comments

comments