চবিতে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ থামছেই না, শাটল ট্রেন জিম্মি

  • আধিপত্য ধরে রাখতে ছাত্রলীগ এখন বগিভিত্তিক
  • তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের রূপ নিচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক ১০টি সংগঠন পুরো শিক্ষা কার্যক্রমকেই অস্থির করে তুলেছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংগঠনগুলো নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে যেমন প্রতিপক্ষের সাথে সংঘাতে জড়াচ্ছে, ঠিক তেমনি চাপ সৃষ্টি করছে শাটল ট্রেন পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। সে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও বগিভিত্তিক সংগঠনগুলো ব্যবহার করছে এ শাটল ট্রেনকে।

নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেন। কিন্তু এ মাধ্যমটিও জিম্মি হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কিছু বগিভিত্তিক সংগঠনের হাতে। শাটল ট্রেনে সংগঠনগুলোর কর্মীদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের রূপ নিচ্ছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।

অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, ভার্সিটি এক্সপ্রেস, সিক্সটি নাইন, একাকার, কনকর্ড, বাংলার মুখ, উল্কা, এফিটাফ ও আর এক্স সদস্যরা মূলত সিটি মেয়র আ জ ম নাছির সমর্থিত ছাত্রলীগের।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, এই বগিভিত্তিক রাজনীতির কারণে তারা মারামারি করে, রেলস্টেশনে হাতাহাতি করে, ড্রাইভারকে আটক করে, হোস পাইপ কেটে দেয়, রেল লাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে; সাথেই সাথেই প্রশাসন আমরা ফোন দেয় তখন আমাদের ছোটাছুটি করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন সংঘর্ষ কিংবা মারামারির ঘটনায় সবার আগে আক্রান্ত হয় শাটল ট্রেন। লোকমাস্টার অপহরণ, হোস পাইপ কেটে দিয়ে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া এটি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া সিএফসি এবং বিজয় সদস্যরা এক সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসাবে থাকলেও বর্তমানে তারা মহিবুল হাসান নওফেলের অনুসারী বলে পরিচিতি পাচ্ছে।

বারবার এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। চট্রগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বগিভিত্তিক রাজনীতি করার কারণে তারা মারামারি করে। সেই সময়ে আমাদের গার্ডদেরকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

বগিভিত্তিক রাজনীতি যাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয় সে জন্য কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের। অবশ্য গত এক বছর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বগি ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে শুধু আমরা চেষ্টা করছি। তারা যাদের রাজনীতি করে বলে দাবি করে তারাও কিন্তু এই গ্রুপিং পছন্দ করে না। আমরা সবার সাথে আলোচনা করে অচিরেই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

দেড় বছর ধরে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ বারবার সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল। তিনি বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এটা হয়। তবে আমি আশা করবো যে কমিটি দিয়ে দিলে এটা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

আট জোড়া শাটল ট্রেন প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে। আর এ সব ট্রেনে ৮ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ যেন থামছেই না। ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল শাটল ট্রেনের বগিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এরপর ২০১৫ সালের ০৭ জুন ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় আহত হয় অনেকেই। এমনকি প্রশাষনকেও জিম্মি করে রাখে তারা।

Comments

comments