কারচুপি নির্বাচনের পর থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মহিলা পরিষদ নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধসহ প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচারের দাবী জানান।

মঙ্গলবার পরিষদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান হয়। এতে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে সংঘঠিত ৬ সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবীতে ঘটনায় মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন। দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্দোলন সম্পাদক রেখা সাহা, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আক্তার, অ্যাডভোকেসি লবি ডিরেক্টর জনা গোস্বামী, আইটি অফিসার দোল কৃষ্ণ শীল।

তারা হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং আইনগত সহায়তা ও চিকিৎসা সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রতিনিধি দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই এলাকায় সংঘঠিত বিভিন্ন নারী ও কন্যা নির্যাতনের ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনসহ নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিষয়ে নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সুবর্ণচর থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে দেখা করেন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সিভিল সার্জেন এর সাথেও তারা দেখা করেন। প্রতিনিধি দল নির্যাতনের শিকার নারীকে আইনগত সহায়তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এদিকে পরিদর্শন শেষে দেয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলাতেই গত জাতীয় নির্বাচনের পর হতে ধারাবাহিকভাবে নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনের ঘটে চলেছে। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষিরিত এ বিবৃতিতে বলা হয় গত ১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় জেলার সুবর্ণচরের চরজব্বর থানাধীন চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের এক গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে নারীকে গণধর্ষণ ও মারধর করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

গত ৯ জানুয়ারি এক গার্মেন্টস কর্মীকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি তারিখ একই উপজেলার পূর্ব চরবাটি ইউনিয়নে স্কুল শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়। একই এলাকায় ক্রমগতভাবে বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি এই ধরণের সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মহিলা পরিষদ এসকল ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধসহ প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচারের দাবী জানান।

Comments

comments