চাকসু নির্বাচন: ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ!

দীর্ঘ ২৯ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নীতিমালা যুগোপযোগী করতে গঠন করা হয়েছে নীতিমালা রিভিউ কমিটি।

দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় চাকসু নিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষে দেখা দিয়েছে কোন্দল। একপক্ষ চাকসু নির্বাচন চাইলেও অন্য পক্ষ নির্বাচনের পূর্বে ছাত্রলীগের কমিটির দেওয়ার দাবিতে সরব।

২০১৫ সালের ২০ জুলাই আলমগীর টিপুকে সভাপতি ও এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর ২০১৬ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ একই রেখে ২৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়।

তবে বারবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় কমিটি গঠনের পর দুইবার স্থগিতাদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ২০১৭ সালের ৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য চবি শাখার সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে।

এরপর আর চবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়নি। তবে চাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগের কমিটির জন্য সরব রয়েছে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষ। অন্য পক্ষ বলছে, কোনো অজুহাতে চাকসু নির্বাচন যেন ব্যাহত না হয়।

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক আরাফাত বলেন, আমাদের কমিটি না থাকায় বর্তমানে চবি ছাত্রলীগ অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন চাকসু নির্বাচনের আয়োজন করছে। চাকসু নির্বাচন মাথায় রেখে ছাত্রলীগের কমিটি হলে ভালো হয়।

উল্লেখ্য দীর্ঘ ২৯ বছর পর বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে এক সভায় চাকসু নির্বাচন আয়োজনের নীতিগত অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকসু‘র নীতিমালা সময়োপযোগী করার জন্য চবি বিজ্ঞান অনুষদ ডিন প্রফেসর ড. শফিউল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটিও গঠন করা হয়।

সূত্র: দেশ রূপান্তর

Comments

comments