আড়াই বছরেও মেলেনি মিতু হত্যার বিচার

  • দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আইজিপির নির্দেশ
  • তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, কিছু জানেন না

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার তদন্ত আড়াই বছরেও শেষ করতে পারেনি পুলিশ। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছেন না তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এ মামলার তদন্ত প্রায় শেষ হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে। সদর দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলেই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবেদনটি দ্রুত জমা দেয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে আমি নির্দেশ দিয়েছি।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ- কমিশনার মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে আইজিপি কিংবা সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ তাকে কিছুই বলেননি। এখনও তদন্ত চলছে। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে মিতুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়। মিতু হত্যার বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশাররফ। দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার দাবি জানান তারা।

পুলিশ জানায়, মিতু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হল- আনোয়ার, ওয়াসিম, এহতেশামুল হক ভোলা, সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু, শাহজাহান, আবু নাসের গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিন। এর মধ্যে আবু নাসের গুন্নু ও শাহজামান ওরফে রবিনের এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে সাবেক সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের জানান। অপর চারজনের মধ্যে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি তিনিই সরবরাহ করেছেন তার বড় ভাই মুসা সিকদার ওরফে আবু মুসাকে।

মুসা এ মোটরসাইকেল চালিয়েই মিতু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়। অপর তিনজনের মধ্যে এহতেশামুল হক ভোলা মিতু হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী। শাহজাহান, ওয়াসিম ও আনোয়ার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল। এ ছাড়া মিতু হত্যায় সন্দেহভাজনদের মধ্যে রাশেদ ও নবী নামে দু’জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। বর্তমানে পলাতক আছে মুসা সিকদার ও কালু নামে দু’জন।

পলাতক মুসাকে ধরতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে সিএমপি। তবে এরপরও সে ধরা পড়েনি। গ্রেফতারদের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মুসার পরিকল্পনায় তারা মিতুকে খুন করেছে বলে জবানবন্দিতে দাবি করে।

এদিকে পলাতক আসামি মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার বলেন, মিতু খুন হওয়ার পরপরই বন্দর থানার কাটগড় এলাকা থেকে পুলিশ তার স্বামীকে (মুসা) ধরে নিয়ে গেছে। যারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে তারাও আটক কিংবা গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করেনি। মিতুর মা শাহেদা মোশাররফ বলেন, আমরা শুরু থেকে বলে আসছি যে বা যারা মিতুকে হত্যা করে থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হোক।

কিন্তু পুলিশ এখনও আমাদের জানাতে পারেনি কার নির্দেশে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি বের করে আনতে আড়াই বছর সময় লাগার কথা নয়। কোনো এক রহস্যজনক কারণে পুলিশ নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করতে পারেনি। চার্জশিটও দিচ্ছে না। আমি দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

Comments

comments