আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে মহিলাকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ চন্ডিপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মিন্টুর নির্দেশে রানী বেগম (৩৩) নামের এক মহিলাকে শিকলে বেঁধে বেদম মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ৯টায় উপজেলার চন্ডিপুর ইউপির ফতেহপুর গ্রামের ঠাকুর বাড়িতে। স্থানীয়রা আজ বুধবার সকালে চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে নির্যাতিতা রানী বেগমকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের ঠাকুর বাড়ির মোহাম্মদ উল্যার মেয়ে রানী বেমগকে একই বাড়ির ইয়াহিয়া মাষ্টারের ছেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টুর নির্দেশে বাড়ির শিরীন আক্তার এবং তার মেয়ে সুমি আক্তারসহ ৭-৮ জনের নেতৃত্বে বাড়ির সুপারি বাগানে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে বেদম গণপিটুনি দেয়। পরে রানী বেগমের চিৎকারে পাশ্ববর্তী বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে রানী বেগম প্রাণে রক্ষা পান। একপর্যায়ে রাতেই লোকজন রানী বেগমকে উদ্ধার করা হলে চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূঁইয়া ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিন্টুর লোকজনের ভয়ে কেউ হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারেনি। পরে আজ সকালে রানী বেগমকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠাকুর বাড়ির এক বৃদ্ধা জানান, মূলত রানী বেগম স্বামী পরিত্যাক্তা। বর্তমানে রানীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা আছে।

ওই টাকাগুলো ভাগবাটোয়ারা করে খাওয়ার জন্য এর ওপর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো। বাড়ির শিরীন আক্তার এবং তার মেয়ে সুমি আক্তারকে দিয়ে ওয়ার্ড সভাপতি মিন্টু ও চেয়ারম্যান এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।

শিরীনের মেয়ে সুমি আক্তার জানান, রানী নামের ওই মহিলা বাড়ির সবাইকে সবসময় গালিগালাজ করে আসছে। এ বিষয়ে কামাল চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি রানী বেগমকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁেধ রাখার জন্য বলেছেন। এ কারণেই আমরা বাড়ির সকলে মিলে বেঁেধ রেখেছি।

অভিযুক্ত দক্ষিণ চন্ডিপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মিন্টু বলেন, সভাপতি হিসেবে বাড়ি ও এলাকার সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব আমার রয়েছে। রানী নামের ওই মহিলা পাগল। দিনরাত শুধু মানুষকে গালাগাল করে। ঠাকুর বাড়ির সম্মানের কথা চিন্তা করে একটু শাসন করা হয়েছে। এতে দোষের কিছু হয়নি। এ ব্যাপারে চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তোতা মিয়া জানান, বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments