ছাত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগ নেতা, ভিডিও ধারণ বন্ধুদের

রংপুরের হারাগাছ থানা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করায় রাসেল মিয়া (২১) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে নিলে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটনের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাসেল কাউনিয়া উপজেলার ভিতরকুটি মাঠেরপাড়া গ্রামের মানু মিয়ার ছেলে এবং ১নং সারাই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

আদালত সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ফারুক আহমেদ এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল ও মঞ্জুরুল রানাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন জানান।

শুনানি শেষে মামলার প্রধান আসামি রাসেল মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং মঞ্জুরুল রানাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। মঞ্জুরুল ওই ইউনিয়নের ধুমেরকুটি গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাসেল ও মঞ্জুরুল রানা নিজেদের সারাই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। মঞ্জুরুল রানা তার ফেসবুক আইডিতে নিজেকে ১নং সারাই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাসেল মিয়াও নিজেকে ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুশান্ত সরকার বলেন, রাসেল ও মঞ্জুরুল রানা ছাত্রলীগের কোনো কর্মী বা সমর্থক নয় এবং সারাই ইউনিয়নে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। ওই এলাকার কিছু ছেলে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে এমন অপকর্ম করছে। কারও ব্যক্তিগত অপরাধ ও অপকর্মের দায় ছাত্রলীগ নেবে না। এরকম অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মামলা ও পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিবেশী কলেজছাত্র রাসেল দীর্ঘদিন প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মেয়েটি প্রথমে সাড়া না দিলেও একপর্যায়ে রাসেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর রাসেল প্রেমের অভিনয় করে মেয়েটিকে রংপুর শহরের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে রাসেলের বন্ধু মঞ্জুরুল রানা গোপন ক্যামেরায় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এরপর রাসেল ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাসেল ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আবার ধর্ষণ করে। প্রথম ঘটনার দিন থেকেই মেয়েটি অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে। সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ তার অস্বাভাবিক আচরণ পরিবারের সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির ভাই বাদী হয়ে রাসেল ও মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ও পর্নগ্রাফি আইনে দুটি মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে আসামি রাসেল ও তার সহযোগী মঞ্জুরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Comments

comments