বিষাক্ত মদ খেয়ে কিভাবে মারা গেল শ’খানেক লোক?

ঘরে তৈরি মদ বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও আসামের চা শ্রমিকদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচলন আছে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বিষাক্ত মদ পান করে গত কয়েকদিনে অন্তত ৯৯ জন লোকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও অন্তত শ’দুয়েক নারী-পুরুষ।

প্রথম মৃত্যুর খবরটি পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার। যারা মারা গেছেন তারা সবাই গোলাঘাট আর জোরহাট জেলার চা বাগানের শ্রমিক। মৃতদের মধ্যে মহিলাও রয়েছেন।

যে বাড়িতে ওই মদ তৈরি হচ্ছিল – তা পুলিশ চিহ্নিত করেছে এবং দেড় লিটার বিষাক্ত মদও উদ্ধার করেছে। এখান থেকে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে বিক্রি হতো বিষাক্ত মদ।

১৮০ মিলিলিটারের প্যাকেট বিক্রি হতো এক ডলারেরও কম দামে। লাইসেন্স করা মদের তুলনায় এ দাম অর্ধেকেরও কম।

এখনও ডাক্তাররা বের করতে পারেন নি যে ঠিক কি উপাদান ওই মদে ব্যবহৃত হয়েছিল – যা পান করার পর সেবনকারীদের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে যেতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সস্তা মদ প্রস্তুতকারকরা প্রায়ই এতে মিথানল ব্যবহার করে -যা মিথাইল এ্যালকোহল এবং এটা মোটরগাড়ির এ্যান্টি-ফ্রিজ সহ বিভিন্ন যন্ত্রে ব্যবহার হয়।

এটা অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ, কিন্তু কখনো কখনো চোরাই মদ প্রস্তুতকারকরা নেশাবর্ধক হিসেবে এটা মিশিয়ে মদ তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশি পরিমাণে মিথানল পান করলে, অন্ধত্ব, লিভারের ক্ষতি এবং মৃত্যু হতে পারে।

রাহুল বরদোলোই নামে একজন ডাক্তার বলেছেন, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা প্রচন্ড বমি করছিল, তারা বলছিল যে তাদের বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছে এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে তৈরী মদ খাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন বহু নারী – পুরুষ।

গুয়াহাটি থেকে একজন বিশেষজ্ঞ এখন ওই মদের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করার জন্য গোলাঘাট-জোরহাটের পথে রয়েছেন।

Comments

comments