“কতো মজলুম অবস্থায় আছি … কি ভাবে বুঝাবো”- শামীম সাঈদী

পরম শ্রদ্ধেয় আব্বার সাথে দেখা করে এলাম। চোখে সেই মোটা ফ্রেমের চশমা, মাথায় কারুকাজ করা টুপি আর সাদা পাঞ্জাবির উপর নীল কোটি গায়ে এসেছিলেন। কিন্তু চেহারাটা মলিন, মনটা বিষন্ন। মুখে হাসি নেই। চোখের মাঝে অনেক অজস্র প্রশ্ন। তিনি জিজ্ঞাসা করার আগেই বললাম আপনার মাসুদ সুস্থ আছে, হাসি খুশি আছে। আপনি সংসদ সদস্য থাকাকালিন সময়ে শুরু করা পিরোজপুর কারাগার মাস খানিক আগে উদ্ভোধন হয়েছে। সেখানেই তাকে রেখেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় তাকে ভালোই রেখেছে। মাসুদের স্ত্রী, সন্তান এবং আম্মা ও আমার স্ত্রী জেলখানায় দেখা করে এসেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র খাবার দাবার সব দেয়া হয়েছে। এতো কিছু জানালাম তবু মনে হলো তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। চোখ দুটো ছলছল করছিল।

মানুষের কান্নার ডেসিবল কতো আমার জানা নেই। কান্নার ওজন, আয়তন ও ঘনত্ব কতো হবে, তাও জানা নেই আমার। তবে নিশ্চিত করেই জানি এবং মানি…

কারাগার ও আদালতের দেওয়ালের নীরব কান্নার ওজন-আয়তন-ঘনত্ব পুরো পৃথিবীর চেয়ে অধিক ভারী হবে।

কতো অত্যাচারী আর জালিমের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ আর কতো নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষের বেদনার অশ্রু লুকিয়ে আছে কারাগারের ঐ ইট কঙ্করের দেয়ালগুলির মাঝে, তা আমরা খুব জানি।

আব্বার অবশ্য আরো দুটো কারনে মন বিষন্ন ও শোকাহত ছিলেন। রাজধানীর চকবাজারে আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মনটা খুব খারাপ ছিলো। শাহাদাতের মর্যাদা কামনা করে নিহতদের জন্য দোয়া করেন এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি দোয়া করেনঃ

ইয়া আল্লাহ!
তুমিই তো মজলুমদের আশ্রয়স্থল ও সাহায্যকারী। সন্দেহ নেই, যে তোমার আশ্রয়ে রয়েছে তার কোন ভয় নেই। যে তোমার ছায়াতে রয়েছে তার কোন চিন্তাও নেই। হে আমাদের মালিক! একমাত্র তোমার কাছেই সাহায্য চাই। আমরা বিশ্বাস করি, তুমিই আমাদের সর্বোত্তম অভিভাবক।

তুমিই আমাদের সাহায্য করো। অসহায় মা তার শিশু সন্তান এবং অসংখ্য নর-নারী আগুনে পুড়ে মারা গেছে ইয়া রাহমানির রাহিম, তুমি তাদের সকল গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দিয়ে বিনা হিসেবে জান্নাত দান করো। কবি দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পরে ছিলেন, ইয়া আল্লাহ তার সাহিত্যের খেদমত কবুলের মাধ্যমে গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করো। আমাদের সকলকে ধৈর্য ধারার তাওফিক দান করো, আমিন।

পরিশেষে তিনি হতাশ হতে বারন করেছেন  হতাশার কিছু নেই।

বললেনঃ কিছু সময় পরে হলেও আল্লাহর সাহায্য আসবেই ইনশাআল্লাহ্‌ …

খুযায়মা ইবনে সাবিত রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অত্যাচারিত ব্যক্তির বদ দু’আ থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই সে দু’য়াকে মেঘের উপরে তুলে নেয়া হয়।’

আল্লাহ বলেন, ‘আমার মর্যাদার কসম ! আমার সম্মানের কসম !
আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করবো কিছু সময় পরে হলেও।’
[ আত-তারগীব ৩১৯৭ ]

Comments

comments