রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের তাণ্ডব, পল্লি চিকিৎসক নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শালবন শরণার্থী ক্যাম্প থেকে এক রোহিঙ্গা পল্লি চিকিৎসককে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা। এ ছাড়া নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে হাসান আলী নামের এক রোহিঙ্গাকে গুলি করেছে তারা। গতকাল শুক্রবার রাতে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত নুরুল আলম নিহতের ঘটনার জের ধরে তার সশস্ত্র অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটায় বলে টেকনাফের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে।

নিহত পল্লি চিকিৎসকের নাম হামিদ (৪৫)। তিনি শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত রোহিঙ্গার নাম হাসান আলী (৩২)। তিনি নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পের সি-ব্লকের মোহাম্মদ সালামের ছেলে।

এ ঘটনার জের ধরে ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনী টহল জোরদার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নয়াপাড়া শালবন ক্যাম্পে শুক্রবার সন্ধ্যার পর পর ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সশস্ত্র গ্রুপ হামিদকে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সেখানে ছয়-সাতটি গুলির শব্দ শুনা যায়। পরে শালবন ক্যাম্পের পশ্চিমে এ-ব্লকের পাশে হামিদের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখেন ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা।

এ ব্যাপারে হামিদের বোন তাসনিম ও স্ত্রী ফাতেমা জানান, সন্ধ্যায় কোনো কারণ ছাড়াই রোহিঙ্গা দুবৃর্ত্তরা পল্লি চিকিৎসক হামিদকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। রাতেই তাঁর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের একদল সশস্ত্র রোহিঙ্গা সি ব্লকের হাসান আলীকে তাঁর দোকানের ভেতরে গিয়ে কয়েকটি গুলি করে। এতে হাসান আলীর শরীরে দুটি বুলেট বিদ্ধ হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় রোহিঙ্গা ও ক্যাম্পে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু হাসানকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই ব্যাপারে নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক আবদুস সালাম জানান, হাসানের ডান ও বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যৌথ বাহিনী টহল জোরদার করেছে।

পুলিশ পরিদর্শক আবদুস সালাম আরো জানান, হাসানকে কক্সবাজার পাঠানোর পর রাতেই পল্লি চিকিৎসক হামিদের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা জানান, শুক্রবার সকালে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা শীর্ষ ডাকাত নুরুল আলম ওরফে মাস্টার জুবাইর নিহত হওয়ার পর তার সহযোগীরা প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এমন সন্দেহভাজনদের ওপর হামলা চালাচ্ছে মাস্টার জুবাইর গ্রুপ।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, ক্যাম্পে গুলির ঘটনা শোনা গেছে। এ ব্যাপারে ক্যাম্প পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Comments

comments