“অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান”

  • ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের দোয়া মাহফিল
  • চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বেসরকারি সংস্থা ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে – নুরুল ইসলাম বুলবুল

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, পুরান ঢাকার চকবাজারে স্মরণকালের মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়, রাসূল (সা)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মৃত্যু শাহাদাতের মৃত্যু। রাসূল (সা:)-এর ঘোষণা মতে, এ ঘটনায় ঈমানের সাথে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, আল্লাহ্ যেন তাদের শহীদী মৃত্যু দান করেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বালা মুসিবত থেকে দেশের মাটি ও মানুষকে হেফাজত করেন।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মাগফিরাতের জন্য শনিবার বিকেলে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মোকাররম হোসাইন খান, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য আমিনুল ইসলাম, মাওঃ আমিরুল ইসলাম, আবুল কাশেম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

নুরুল ইসলাম বুলবুল অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার কাজে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের যে সকল নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে তিনি সরকারের ব্যর্থতা, দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এর দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। যদি নির্বাচিত, জনবান্ধব ও জবাবদিহী মুলক সরকার থাকতো তাহলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতো। এজাতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করতে আগামী দিনে জনগনের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্টা করতে সকলকে কার্যকরী ভুমিকা পালনের আহবান জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, স্বাভাবিক জীবন যাপনসহ তারা যেন ব্যবসা বাণিজ্য ও ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারে তার জন্য এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ক্যামিকাল গোডাউন আবাসিক এলাকা থেকে সড়িয়ে একটি নিরাপদ জোনে স্থানান্তর করে তাদের পুনর্বাসন করারও যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারকে আহবান জানান। পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও বিত্তবানদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

নিমতলির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের নিমতলী ট্র্যাজেডিতে প্রায় ১৫০ জন মানুষ পুড়ে মারা যায়। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আবারোও চকবাজারে দেখতে পেলাম। এই ঘটনার জন্য সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের অভাবই দায়ী বলে আমরা মনে করছি। এ জাতীয় মর্মান্তিক দৃশ্য বারবার দেখার মতো সাহস আমাদের নেই। আল্লাহ্ যেন এ ধরনের বিপদ থেকে আমাদের দেশকে হেফাজত করেন। এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও এজাতীয় দুর্ঘটনার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসাথে জাগতিক কারণের পাশাপাশি নৈতিক কারনের ব্যাপারেও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তিনি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বলেন, আল্লাহ্ যেন সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বালা মুসিবত থেকে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে হেফাজত করেন।

আলোচনা শেষে চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

Comments

comments