“ধনীদের লোভের পরিণতি চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড”

গত বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৬৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে ‘ধনীদের লোভ’কে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগুনের সূত্রপাত হলে একটি ছোট দোকানে তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অনুমোদনবিহীনভাবে রাখা হয়েছিল রাসায়নিক। মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে দোকানের পাশের একটি আবাসিক ভবনে, যেখানে রাখা ছিল বডি স্প্রের হাজার হাজার বোতল। বিস্ফোরিত হতে শুরু করে সেগুলোও। এভাবেই হু হু করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

মূলত ভবনে অবৈধভাবে রাখা রাসায়নিক কেমিক্যাল মজুতের বিষয়টিকেই ভয়াবহ এই পরিণতির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছে আমেরিকার পত্রিকাটি।

পত্রিকাটির অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর একটি। কিন্তু দারিদ্র্য আর ঘনবসতি নয়, পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে মজুত করে রাখা অনুমোদনবিহীন রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থই এই বিপুল পরিমাণ প্রাণহানির জন্য দায়ী। মুনাফার স্বার্থে ধনী ব্যবসায়ীরা কখনও ঘুষ দিয়ে, কখনও আবার গোপনে আইন ভঙ করে প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের মতো দ্রব্য আবাসিক ভবনে রেখে দেয়। অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, চকবাজারের বাসিন্দারা ধনীদের ওই লোভের আগুনেই পুড়ে মরেছেন।’

নিজাম উদ্দিন আহমেদ নামে ঢাকার একজন প্রকৌশলীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘এটি দারিদ্রের ব্যাপার নয়, এটি লোভের পরিণতি।’

তিনি বলেন, ‘যে মানুষগুলো আবাসিক ভবনে এই রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ মজুত করছেন, তারা সবাই ধনী। তাদের রয়েছে সুন্দর বাড়ি ও গাড়ি। তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে বিদেশে।”

‘সরকারের উচিত এদের প্রত্যেকের বাড়িতে হানা দেওয়া এবং বলা ‘দূর হও’ এখান থেকে। কিন্ত তারা (সরকার) এটা করে না,’ যোগ করেন তিনি।

Comments

comments