ওয়াহেদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল: তদন্ত কমিটি

ঢাকা: চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনে ভস্মীভূত ওয়াহেদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল বলে দাবি করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান।
চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ চিহ্নিতকরণ বিষয়ক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য তিনি।
আজ শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে এসে জুলফিকার রহমান বলেন, “ভবনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল।”
তিনি বলেন, “ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এছাড়া আরও অন্যান্য কেমিক্যাল ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে।”
তদন্ত কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, “পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হতো এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমার মতো কাজ করেছে। কেমিক্যালের কারণে আগুন এভাবে ছড়িয়েছে, না হলে কখনোই আগুন এভাবে ছড়ায় না।”
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি এখানে যে জিনিসগুলো আছে সেগুলো অবশ্যই কেমিক্যাল। ওয়াহিদ ম্যানশনে কেমিক্যাল ছিল না- শিল্পমন্ত্রী কথাটা কোন আঙ্গিকে বলেছেন এটা আমার জানা নেই।’
কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুর কৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেছেন, “ওয়াহিদ ম্যানশন একটি অনেক বড় বিল্ডিং। এ ধরনের ভবনের মধ্যে মাত্র একটি সিঁড়ি, যা পর্যাপ্ত নয়। ভবনের দ্বিতীয় তলাটা পুরোটাই গুদাম ছিল। ওই ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না।”
বুধবার রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments

comments