নাটক শর্টফিল্মের নামে চলছে ভাদাইমাদের বল্গাহীন অশ্লীলতা

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলা নাটক ও টেলিফিল্ম যখন দেশে বিদেশে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তখন সেই সুযোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব এবং ফেসবুকে নাটক, কৌতুক ও শর্টফিল্মের নামে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে একশ্রেণীর রুচিহীন অভিনেতা। অতি নিম্নমানের অভিনয় ও নির্মাণের পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ, জঘন্য গল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে নোংরামি ছড়িয়ে দিচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। আর এসব আজগুবি ও নোংরা যৌন সুরসুরিমূলক অভিনয় দেখে বিপথগামী হচ্ছে দেশের যুব সমাজ। বিশেষ করে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে দেশের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে। এসব দেখে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও বিপথে যাচ্ছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে, গার্মেন্ট শ্রমিক, প্রবাসী, ও বেকার যুবকদের মধ্যে। সার্বিকভাবে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের পরিবেশ। বাড়ছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা।

টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক ভাষায় নাটক ও কৌতুকের নামে কুরুচিপূর্ণ অভিনয় করে আলোচনার শীর্ষে ভাদাইমা গোষ্ঠি। এদের মধ্যে ধর ভাদাইমা, মডার্ন ভাদাইমা, ডিজিটাল ভাদাইমা জহের, ডিজিটাল ভাদাইমা, ব্রেক ছাড়া ভাদাইমা, তার ছেড়া ভাদাইমা, পাংকু ভাদাইমা, মডার্ন ৪২০ ভাদাইমা, অরিজিনাল ভাদাইমা আসান আলী, ছোট দিপু, ছোট টাইসান অন্যতম। কৌতুক অভিনয়ের নামে নারীদের অশ্লীলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। এদের প্রতিটি ভিডিওর কমেন্টে লোকজন বিরক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করলেও তাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন সাড়া মেলেনি।

সামাজিক মাধ্যমে নোংরা, অশ্লীল ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে একসময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনের পরিচিত মুখ হারুন কিসিঞ্জারের বিরুদ্ধেও। অশ্লীলতার অভিযোগ আছে মজিবর-টুকুসহ বেশ কিছু কৌতুক অভিনেতার বিরুদ্ধে।

অনলাইনে বিষের মত ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও কন্টেন্ট মূলত পর্নোগ্রাফির সারিতে পড়ে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ তে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- ‘যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যাহা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।’

আর উপরোল্লিখিত ব্যক্তিদের অভিনীত বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট এসবে ভরপুর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুজব নিয়ন্ত্রনে যতটা সক্ষমতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছে, এসব পর্নোগ্রাফি ভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে তাদের ততটাই উদাসীন মনে হয়েছে। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে এসবের পেছনের কারিগররা। ফলে এধরনের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল প্রতিদিনই বাড়ছে।

গতকাল বিতর্কিত অভিনেত্রী সানাই মাহবুবকে আটকের পর থেকে বিষয়টিকে আশার দিক হিসেবে দেখছে অনলাইনে বিচরণকারী তরুণ সমাজ। তারা অবিলম্বে এসব পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের বিশেষ হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। সানাই মাহবুবের মত আরও বেশ কিছু অশ্লীলতা ছড়ানো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যাপারেও তারা কথা বলছেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নেতৃত্বে নিরাপদ ইন্টারনেট প্রচারণার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

Comments

comments