নারী দিয়ে ইয়াবা বিক্রির ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ীতে কর্মরত দুই পুলিশ কনস্টেবলের বাসা থেকে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকাসহ নূপুর আক্তার(৩০) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাব-১০। এ ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ কনস্টেবল আরিফ(২৮) ও মামুনকে(২৭) ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম।

র‌্যাব ১০ সিপিএসসি-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার আলী রেজা রাব্বী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গজারিয়া উপজেলা ভবেরচর কলেজ রোড এলাকার হারুন অর রশিদের বাড়ীর পাঁচ তলায় অভিযান চালান তারা। এ সময় একটি ফ্লাট থেকে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকাসহ নূপুর আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেন তারা।

তিনি অরো জানান, উল্লেখিত ফ্লাটটি গজারিয়া ভবেরচর পুলিশ ফাঁড়ীর দুই কনস্টেবল আরিফ (২৮) কং নং-৫৫৭ ও কনস্টেবল মামুন(২৭) কং নং-৪৭৯ ব্যবহার করতো।

বাড়ীরটির মালিক হারুন অর রশিদ জানান, তারা প্রায় এক বছর আগে তার কাছ থেকে ফ্লাটটি ভাড়া নেন। বাড়ী ভাড়া নেওয়ার সময় কনস্টেবল আরিফ নূপুরকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশের চাকুরির আড়ালে আরিফ এবং মামুন ইয়াবা বিক্রি করতো। স্থানীয় মাদকসেবীরা তাদের নিয়মিত খদ্দের ছিল।

তারা আরো জানান, নূপুর আসলে আরিফের স্ত্রী নয় পতিতা, বাসায় পতিতা দিয়ে ব্যবসা ও করাতো তারা। পুলিশের ভয়ে তারা কিছু বলতে পারতেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে, হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুই কনস্টেবলের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অধিকতর তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় র‌্যাব-১০ এর পরিদর্শক মো: নিজামউদ্দিন শেখ বাদী হয়ে সোমরাত দিবাগত একটার দিকে গজারিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে, ভবেরচর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ ইন্স.(নি.) হাবীবুর রহমান জানান, উল্লেখিত দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। ফাঁড়ীর বাকী পুলিশ সদস্যদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Comments

comments