ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট দিন: বিএনপি

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

দলটির পক্ষ থেকে ভোটারদের উদ্দেশে বলা হয়েছে- আপনার হাতে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে অপশাসনের হাত থেকে মুক্তিলাভের ও দেশকে মুক্ত করার। সব হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে-দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শুক্রবার এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের একেকটি ভোটই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ ও শান্তির বাংলাদেশ। তবে ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ের বেশে তবেই ঘরে ফিরবেন।

দলটি আরও বলেছে, ভোটার ও আওয়ামী দুঃশাসনবিরোধী জনগণের প্রতি আহ্বান- আসুন, জেগে উঠুন কোটি কোটি দেশপ্রেমিক সূর্যসন্তান। তাহলেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস। বিষাদের ঘনঘোর কাটিয়ে ৩০ ডিসেম্বরে উঠবে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য। আপনারা যদি বীরদর্পে বেরিয়ে আসেন, তাহলে হাজারো ভোটারের ভিড়ে গুটিকয়েক লোক কোনোভাবেই আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধানের শীষ প্রতীক হচ্ছে মুক্তির প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীক, উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রতীক, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতীক, খালেদা জিয়ার প্রতীক, আপনার প্রতীক এবং দুঃশাসন থেকে মুক্তির প্রতীক।

দলটি আরও বলেছে, এই নির্বাচন দেশের মানুষের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, গণতন্ত্র রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ। তাই শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আপনারা ভোট দিতে আসবেন। ভোটকেন্দ্রে আপনাদের আগমনে নীরবে ভোট বিপ্লব ঘটবে। দেশের মালিকানা বুঝে নিতে আপনার রায় দিতে ভোটকেন্দ্রে আসুন। সবাই মিলে ভোট পাহারা দিন। বিজয়ের এই মাসে দেশের কল্যাণে ভোট রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আপনারা দেশের সন্তান। অন্তত একটা দিন দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ নিদর্শন প্রদর্শন করুন। দেশের প্রতিও আপনাদের দায়িত্ব আছে। এতদিন সরকারের চাপে যা করেছেন, এখন সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের। দেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে সহযোগিতা করুন। দেশ আপনাদের অবদান স্মরণ করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে সশরীরে লড়াই করেছিলেন ৫ লাখ তরুণ। আর এখন তাদের আছে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার। আছে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার। আছে গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ আর সংগ্রামী গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য। আছে ১৬ কোটি জনগণ। এত বড় বাহিনীর সামনে ক্ষুদ্র বাহিনী কী করতে পারবে? জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তির কাছে অপশক্তির সব অস্ত্রই অকার্যকর প্রমাণিত হবে।

Comments

comments