ভোটারদের হুমকি দিতে গিয়ে গণপিটুনিতে আ. লীগ নেতা নিহত

ভোটাররা যেন ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে না যান তা নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছিলেন কুয়েত থেকে আসা আওয়ামী লীগ নেতা কায়সার আহমাদ। গত কয়েকদিন ধরে অস্ত্রধারী কয়েকজন সন্ত্রাসী সাথে নিয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে ভোটারদের হুমকি দিতে গেলে গণপিটুনির শিকার হন এই প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা। এসময় তাকে ফেলে তার সাথে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুয়েত থেকে ফিরে বিরোধী মতের সমর্থকদেরকে হামলা মামলার হুমকি দিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে আসছিলেন কায়সার। অনেক লোককে গায়েবী মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারের পেছনেও তার হাত রয়েছে। তার এ চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পায়নি স্থানীয় অনেক আ. লীগ সমর্থকও। গতকাল রাতে সে একইভাবে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিতে আসলে জনরোষে পড়ে কায়সার। একপর্যায়ে জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে গণপিটুনি দেয়। এসময় অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ফেলে পালিয়ে যায় তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনার পর নৌকার প্রার্থী ড. মোমেনের বিদেশ থেকে ভাড়া করে আনা বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী গা-ঢাকা দিয়েছে বলেও জানায় স্থানীয়রা। বিগত ১০-১২ দিনে যারা সন্ত্রাস চালিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তাদের অনেককেই আর দেখা না যাওয়ায় সাধারণ ভোটাররা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

তবে সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি শাহ্ হারুনুর রশীদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল বলে জানা গেছে। নিহত কায়সারের লাশের ময়নাতদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments