এএসপির গাড়িতে বোমা হামলা করে ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ

চুয়াডাঙ্গার পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রলীগকর্মী টিটু

চুয়াডাঙ্গায় সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলা চালিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে আটক হয়েছে খালিদুজ্জামান টিটু নামে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতা।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার উথলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলসহ চার কনস্টেবল।

সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল জানান, রাত ৯টার দিকে জীবননগর -চুয়াডাঙ্গা সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়ে মারে। বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ির ডান দিকের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গুলি ছুঁড়লে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে টিটু নামে এক ছাত্রলীগ নেতা আটক হয়। আটক ছাত্রলীগ নেতা টিটু দামুড়হুদা দর্শনা ইসলাম বাজারের মৃত মোজাহিদ আলীর ছেলে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

খালিদুজ্জামান টিটু দর্শনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বলে জানান দর্শনা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তপু।

রাতেই চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম তাৎক্ষণিক এক প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটনানোর পরিকল্পনা ছিল হামলাকারী এই ছাত্রলীগ নেতার। তবে অল্পের জন্য পুলিশের সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

এদিকে, হামলাকারী যুবক খালিদুজ্জামান টিটুকে উদ্ধার করে রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, গুলিতে আহত টিটুর ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকাতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর ‍ওপর ক্ষেপিয়ে তুলতেই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন ছাত্রলীগ নেতা টিটু। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যে এর আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের আগে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে সরকারবিরোধীরা। লন্ডন থেকে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর আজকের এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা।

Comments

comments