ধানের শীষের প্রার্থীর ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জে এম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাকে মেহেন্দিগঞ্জ থেকে বুধবার রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরে এক বিএনপি নেতার বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, এই আসনে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। ধানের শীষের প্রার্থীসহ কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হামলায় ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে মাঠে নামতে পারছে না। তারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাউদ্দিন ফরহাদসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আহত নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর জানান, ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য বুধবার বেলা ১১টার দিকে পাতারহাট বন্দরে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তার দলের প্রার্থীর পক্ষে কর্মসূচি করছেন। যে কারণে সকালের পরিবর্তে বিকেলে গণসংযোগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন আলমের বাসায় গিয়ে উঠি। বেলা ১টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিটিং শেষ হওয়ার পর দেখতে পাই ২/৩শ’ লোক চিৎকার দিয়ে আফসার হোসেনের বাসার দিকে আসছে। পরে তারা সেখানে এসে নানান ধরনের হুমকি-ধামকি দেয় এবং আফসার হোসেনের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। বাড়ির বাহির থেকে ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা হামলা চালিয়েছে তাদের সবাইকে চিনতে না পারলেও এরা স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী বলে জানতে পেরেছি।’

এ বিষয়ে বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পংকজ নাথ বলেন, ‘আমি তিনদিন ধরে হিজলা ও কাজিরহাটে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছি। যেটা আমি শুনেছি, গতকাল এই ভদ্রলোক (জে এম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর) বিএনপির প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কিংবা দায়িত্বশীল কারো বাসায় না গিয়ে উঠেছেন বিতর্কিত এক নেতার বাসায়। আর যে গলিতে ওই নেতার বাসা সেটা বিএনপির গলি নামে পরিচিত। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের আড্ডা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মো: কাওসার এসেছেন মেহেন্দিগঞ্জে, সেখানে আমাদের নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন। ওখানে উনি (জে এম নুরুর রহমান) কোথায় গিয়েছেন কারা মেরেছে তা আমাদের নেতা-কর্মীদের জানার কথা নয়।’

নৌকার এই প্রার্থী বলেন, ‘মেজবা উদ্দিন ফরহাদ মেহেন্দিগঞ্জের সাবেক এমপি ছিলেন, তার নেতৃত্বেই মেহেন্দিগঞ্জ বিএনপি চলছে। পুরো কমিটিই তার অধীনে। এটা মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ। এখানে আওয়ামী লীগের কারো জড়িত থাকার সুযোগ নেই, কারণ আমাদের অন্যত্র প্রোগ্রাম ছিলো।’

তবে এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপেন বলেন, ‘কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয় নেই। আমাদের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের ভয়ে প্রচার-প্রচারণাই চালাতে পারছে না। প্রার্থীর ওপর তারা হামলা চালিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছে।’

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিন খান জানান, প্রার্থীদের গণসংযোগ নিয়ে একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে, তবে সেখানে তেমন কিছু হয়নি।

Comments

comments