খালেদা জিয়াসহ যাদের প্রার্থিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়লো

দুই বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না- গতকাল মঙ্গলবার এমন আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিএনপির পাঁচ নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ওয়াদুদ ভূইয়া, আব্দুল ওহাব ও মশিউর রহমান তাদের দণ্ড স্থগিত চেয়ে আপিল করলে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। কিন্তু আপিল বিভাগ আজ বুধবার এ বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ দেয়ায় হাইকোর্টের আদেশই বহাল থাকলো বলে জানিয়েছেন শুনানিতে অংশ নেয়া অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

আর এ আদেশের ফলে প্রার্থিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়লো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতার। এ দলে আছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও। আছেন বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদাও।

যাদের প্রার্থিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে তারা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নাজমুল হুদা, এম মোরশেদ খান ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর নাসিরউদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান, সাবেক সাংসদ (ঝিনাইদহ) মশিউর রহমান, ওয়াদুদ ভুঁইয়া (খাগড়াছড়ি), আব্দুল ওহাব (ঝিনাইদহ), হাজি মকবুল আহমেদ, শাহজাহান চৌধুরী (জামায়াতে ইসলামী), হাজি মোহাম্মদ সেলিম, জয়নাল হাজারী ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এদের মধ্যে খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও তারেক রহমানের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। অন্যদের মধ্যে মায়া, এম মোরশেদ খান ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। এ দুই নেতাকে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এদের মধ্যে মোরশেদ খান ও শাহজাহান ওমরের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক। এ আপিল এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

এ ছাড়া অন্যদের আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন। হাইকোর্টে যাদের আপিল বিচারাধীন তাদের মধ্যে মীর নাসিরউদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলালউদ্দিন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান, মশিউর রহমান, ওয়াদুদ ভুঁইয়া, আব্দুল ওহাব, হাজি মকবুল আহমেদ, হাজি মোহাম্মদ সেলিম, জয়নাল হাজারী ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সাজা এর আগে হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেন। একইসাথে হাইকোর্টকে পুনরায় শুনানি করে রায় দিতে বলা হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্টদের আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন।

এ ছাড়াও ঋণখেলাপির দায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হারান চাঁদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. শামসুল হক ভূঁইয়া।

সূত্র: নয়াদিগন্ত

Comments

comments