ঢাকা-১৫ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান চূড়ান্ত

রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৫। এই আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসবে চূড়ান্ত হয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল ২০ দলীয় জোটের অনেকগুলো সূত্র আমাদের এই খবর নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা সংবাদ-২৪/৭ কে জানিয়েছেন এবার জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

ঢাকার কোন আসন বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে না চাইলেও নানান সমীকরণ মিলিয়ে অবশেষে জামায়াতকে এই আসন ছাড়তে বাধ্য হয় বিএনপি। বিএনপির সর্বশেষ অংশ নেয়া নির্বাচনে এই আসনে দলের প্রার্থী উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান। তিনি পরাজিত হন আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে। হামিদুল্লাহ খান প্রবীণ ও শক্তিশালী নেতা হওয়ার পরও ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। অবশ্য ২০০৮ এর নির্বাচনকে বিএনপি এখনো পাতানো নির্বাচন মনে করে।

এই আসনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী বরাবরই শক্তিশালী। এখানে জামায়াতের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জামায়াতের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে এই আসনে তাদের জনশক্তি ঢাকার মধ্যে সবচাইতে বেশি। মূলত এই আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল মীর কাসেম আলী। মানবতাবিরোধী অপরাধের ইস্যুতে আওয়ামী সরকার তার ফাঁসী কার্যকর করে।

২০০৮ এর নির্বাচনে প্রবীণ প্রার্থী হিসেবে জামায়াত হামিদুল্লাহ খানকে সমর্থন দেন। মীর কাসেম আলী ও হামিদুল্লাহ খান দুজনই ইন্তেকাল করেছেন। তাই এবার শুরু থেকেই এই আসনে জামায়াত কাজ করে আসছিলো। এই আসনে কে হবেন বিএনপির নতুন প্রার্থী তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও বিএনপি তাদের প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের এই শক্তিশালী এলাকায় ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনীত করেছে। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবং ক্লিন ইমেজের মানুষ। মিরপুর-কাফরুল এলাকায় তার গ্রহনযোগ্যতা ব্যাপক।

ডা. শফিকুর রহমান ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, যোগ্যতা, মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। যে কারণে ১৯৮২ সালে ছাত্রাবস্থায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি বার বার হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তাকে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে রেখেছে।

ডা. শফিকুর রহমান ২০১০ সালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল এবং ২০১৬ সালে সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ডা. শফিকুর রহমান প্রখ্যাত রাজনীতিকই নন বরং তিনি একজন খ্যাতিমান সমাজ সেবক, বলিষ্ঠ সংগঠক এবং সফল উদ্যোক্তা। তিনি একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ডা. শফিকুর রহমান অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

একাধিক ইয়াতিমখানা, দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন মসজিদ, ক্লাব, রক্তদানকারী ক্লাব পালস’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি একাধিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে আসছেন।

এই ব্যাপারে জামায়াতের ঢাকা উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঢাকা ১৫ আসন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই আসনে সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান জনপ্রতিনিধির অভাবে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, পানিবদ্ধতা, লোডশেডিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দূর্বলতা, অনুন্নত অবকাঠামো, খেলার মাঠের অপর্যাপ্ততা, অপসংস্কৃতির সয়লাভ, হত্যা, গুম, অপহরণ, যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়সহ নানান সমস্যায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় ২০ দলীয় ঐক্যজোট ঢাকা ১৫ আসনের সাধারণ জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, সমাজসেবী, বলিষ্ঠ সংগঠক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বার বার কারা নির্যাতিত ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা ডাঃ শফিকুর রহমানকে এই আসনের জন্য মনোনীত করেছে। সমৃদ্ধ ঢাকা ১৫ আসনের প্রত্যাশা পূরণে ডা. শফিকুর রহমানকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে এলাকাবাসী একজন পরিচ্ছন্ন ও জনদরদী জনপ্রতিনিধি পাবে ইনশাআল্লাহ।

অন্যদিকে আওয়ামী শিবিরে কোন্দল থাকায় ও একাধিক প্রার্থী থাকায় এই আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচনে এগিয়ে থাকবে বলে আশা করছে ঢাকা-১৫ আসনের ভোটাররা। ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে এই এলাকার জনগণের মধ্যে উচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে।

Comments

comments