নারায়ণগঞ্জে টেনশনে ‘নৌকা’ প্রত্যাশীরা

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে ৬৫ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তারপর দিয়েছেন জমা। সাক্ষাৎকার পর্বও শেষ। কিন্তু এখনও নৌকার টিকিট নিশ্চিতের অপেক্ষায়। কার কপালে নৌকার টিকেট মিলবে তাও বলতে পারছেন না। আবার জোট মহাজোটের জটিল সমীকরণের কারণে দলের অনেকের মনোনয়ন ঝুঁকিতে রয়েছে।

তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার নিয়ম থাকলেও নানা কারণে এবার বিভিন্ন সংস্থা ও সাংগঠনিক জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। এ কারণে বলা যাচ্ছে না কাকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এসব বার্তা পাওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন মহা টেনশনে সময় পার করছেন। শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে কখন ঘোষণা করা হবে দলের প্রার্থীর নাম। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন। কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না দল থেকে মনোনয়ন কে পাবেন।

তবে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহকারী সবার বিশ্বাস, সবাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। অনেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় আগেই নেমে পড়েছেন, এ তালিকায় রয়েছেন রূপগঞ্জ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, রফিক, শাজাহান। এ আসনে অনেকেই গাজী গোলাম দস্তগীরের ডামি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তবে এ আসন থেকে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদও মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। নির্বাচনে যদি মহাজোট থাকে তাহলে এর হিসাব নিকাশ অনেকটাই পরিবর্তন হতে পারে।

আড়াইহাজার আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সোনারগাঁ আসনের জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত, মাহাফুজুর রহমান কালামসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে। সদর-বন্দর আসনটি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এ আসন থেকে তিনি পুনরায় নির্বাচন করার জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কিনেছেন। এ আসন থেকে প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভিন ওসমানও জাতীয় পাটি থেকে মনোনয়ন কিনেছেন। এ আসনটি মহাজোটের থাকলেও এবার আওয়ামী লীগে প্রার্থীর দাবিতে অনড় রয়েছে নেতাকর্মীরা।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, কেন্দ্রীয় শ্রমীকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক আবু সুফিয়ান, শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল, মাহামুদা মালা। এ আসটি নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক প্রত্যাশা থাকলেও দলীয় হাই কমান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনের স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের এমপিদের কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে নতুন মুখের দেখা মিলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কোন আসন থেকে কাকে বাদ দেবেন আর কাকে নেবেন সেটি নেত্রীই ভালো বলতে পারেন। নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের। আমরা কাউকে এগিয়ে রাখতে চাই না। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে আমরা তার জন্যই কাজ করবো।

 

সূত্র: ইত্তেফাক

Comments

comments