মিরপুর টেস্টে জিতলো টাইগাররা

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে। মিরপুর টেস্টে সেই প্রতিশোধ নিয়েছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা। ফলে, দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজটি ১-১ এ ড্র হলো। জিম্বাবুয়ের সামনে টার্গেট ছিল ৪৪৩ রান, সফরকারীরা তোলে ২২৪ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৬০ ওভারে ৭ উইকেটে ৫২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। ২১৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ২২৪ রান। ৪৪২ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৩ রান। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২২৪ রানে। বাংলাদেশ ২১৮ রানের বিশাল জয় তুলে নেয়।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৪২১ বলে ১৮টি চার আর একটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ২১৯ রান। মুমিনুল হক ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি হাঁকান। ২৪৭ বলে ১৯টি বাউন্ডারিতে করেন ১৬১ রান। তার আগে মুশফিকের সঙ্গে ২৬৬ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। আর মেহেদি হাসান মিরাজ ১০২ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। মুশফিক-মিরাজ মিলে ১৪৪ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। জিম্বাবুয়ের পেসার কাইল জারভিস ৫টি উইকেট দখল করেন। ১৬০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ৫২২ রান। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০৫.৩ ওভারে জিম্বাবুয়ে ৩০৪ রান তোলে। ব্রেন্ডন টেইলর ১৯৪ বলে ১০টি চারের সাহায্যে করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ১১০ রান। ওপেনার ব্রায়ান চারি ৫৩ আর হ্যামিলটন মাসাকাদজা ১৪ রান করেন। ১১৪ বলে ১২টি চার আর একটি ছক্কায় ৮৩ রান করেন পিটার মুর। তাইজুল সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে তুলে নেন আরও ৫টি উইকেট। মিরাজ পান তিনটি উইকেট।

২১৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস। কাইল জারভিসের বলে ব্রেন্ডন মাভুতার হাতে ধরা পড়ার আগে ইমরুল করেন মাত্র ৩ রান। দলীয় ৯ রানের মাথায় বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায়। এক বল পরেই জারভিস বোল্ড করেন লিটন দাসকে (৬)। পরের ওভারে বিদায় নেন গত ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক। ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে উইকেটের পেছনে রেগিস চাকাভার গ্লাভসবন্দি হন মুমিনুল (১)। দলীয় ১০ রানে বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায়। দলীয় ২৪ রানের মাথায় বিদায় নেন গত ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। তিরিপানোর বলে মাভুতার তালুবন্দি হওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৭ রান। এরপর জুটি গড়েন অভিষিক্ত মোহাম্মদ মিঠুন এবং অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১১৮ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ১৪৩ রানের মাথায় বিগ শট খেলতে গিয়ে সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ তুলে দেন মিঠুন। বিদায়ের আগে ১১০ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় মিঠুন করেন ৬৭ রান। দ্রুত বিদায় নেন আরিফুল হক (৫)।

দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণার আগে উইকেটে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১২২ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কায় দলপতি করেন ১০১ রান। মেহেদি মিরাজ (২৭) অপরাজিত থাকেন। দুজন মিলে ৭৩ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। ৫৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। তাতে, জিম্বাবুয়ের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৪৩ রান।
শীর্ষনিউজ/এম

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের ২৩তম ওভারের শেষ বলে মেহেদি মিরাজ ফিরিয়ে দেন ওপেনার হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে (৬৮ বলে ২৫)। ২৬তম ওভারে ব্রায়ান চারিকে এলবির ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ দেখান তাইজুল। দলীয় ৭০ রানে জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় উইকেট হারায়। বিদায়ের আগে চারি ৮২ বলে করেন ৪৩ রান। ৩৬৭ রানে পিছিয়ে জিম্বাবুয়ে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। পঞ্চম দিন ব্যাটিংয়ে নামা শন উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। বোল্ড হওয়ার আগে উইলিয়ামস করেন ১৩ রান। এরপর আঘাত হানেন তাইজুল, নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন সিকান্দার রাজাকে (১২)। দ্বিতীয় সেশনে ব্রেন্ডন টেইলর আর পিটার মুর যখন দলকে টেনে চলছেন তখন আঘাত হানেন মিরাজ। ৭২তম ওভারে মিরাজের বলে ইমরুলের হাতে ক্যাচ দেন ৭৯ বলে ১৩ রান করা পিটার মুর। তার আগে টেইলরের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর রানআউট হন রেগিস চাকাভা (২)।

ইনিংসের ৭৮তম ওভারে মিরাজ ফিরিয়ে দেন ডোনাল্ড তিরিপানোকো। লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে তিরিপানোর ব্যাট থেকে কোনো রান আসেনি। ঢাকা টেস্টে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করেন ব্রেন্ডন টেইলর। এটা তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি, ব্যাক-টু-ব্যাক হিসেবে দ্বিতীয়বার গড়েন এই কীর্তি। যা কোনো জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানের জন্য প্রথম। টেইলরের সেঞ্চুরির পর ব্রেন্ডন মাভুতাকে (০) ফেরান মিরাজ। নিজের পঞ্চম উইকেট নিতে মিরাজ ফিরিয়ে দেন কাইল জারভিসকে। তেন্দাই চাতারা ইনজুরিতে থাকায় প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। ব্রেন্ডন টেইলর ১৬৭ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ১০৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। মিরাজ ৫টি, তাইজুল ২টি, মোস্তাফিজ একটি করে উইকেট পান। অভিষেক টেস্টে কোনো উইকেট পাননি পেসার খালেদ আহমেদ।

Comments

comments