ঠাকুরগাঁও ২: ইমেজ সংকটে আ.লীগ, দৌঁড়ে এগিয়ে জামায়াতের আব্দুল হাকিম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী আসন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক ও জামায়াতের একক প্রার্থী বেশ আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। বিগত ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় আসনটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দবিরুল ইসলামের দখলে। তবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অবস্থান ও ভোট ব্যাংক বেশ শক্তিশালী।

বিগত দুই সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও পেয়েছিল জামায়াত। দুইবারেই জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিমের হেরে যাওয়ার ভোটের ব্যবধানটা ছিল খুবই সামান্য। ২০০১ সালের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকীম পায়ঃ ৫৭,১৯৬ ভোট। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের দবিরুল ইসলাম এমপি হয়ঃ ৬২,৪৮৩ ভোট পেয়ে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলেও প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। ঐ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকীম পায়ঃ ৯৮,৪৫৬ ভোট। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের দবিরুল ইসলামঃ ১০২,৮৩৩ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়।

বর্তমানে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, নির্যাতন ও পরিবারিক দাপটের কারণে অনেকটাই ইমেজ সংকটে ভুগছেন আওয়ামীলীগের এমপি দবিরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের এমপি। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে পরিবারের সদস্যদের বসানোর কারণে তিনি বর্তমানে নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে অনেকটাই বিতর্কিত।

দীর্ঘদিন এ আসনে এমপি হিসেবে থাকা দবিরুলের আর্থিক উত্থান ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে তার নির্বাচনী এলাকা বালিয়াডাঙ্গীতে রয়েছে বিশাল টি এস্টেট। পাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রামনগর টি এস্টেট একশ’ একরেরও বেশি জমিতে বিস্তৃত। যার বেশির ভাগ সংখ্যালঘুদের বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। দবিরুল ইসলাম এসব জমি তাদের থেকে জোর করে দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চা বাগানকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আর তার পূর্বের অবস্থান আর নেই। তার কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষসহ সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা। আর মানুষ এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাচ্ছে।

বর্তমান এমপি দবিরুলের এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী মনে করেন, নির্বাচনী দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে বিগত দুই নির্বাচনে অল্প ভোটে হেরে যাওয়া জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিম।

ইতিমধ্যে ২৩ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম এর পক্ষে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে আমার সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে কাজ করতে বলা হয়েছে। আমার বক্তব্য এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে ইসলাম, গনতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে ২৩ দলীয় জোট যাকেই ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মনোনয়ন দিবে, আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। এখানে আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করিনা। আর আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এতটুকু বলতে পারি ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হব। “

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নানামুখী কর্মকাণ্ড চলছে। দলগুলো থেকে কে পাবেন মনোনয়ন তার জন্য এখন অপেক্ষার পালা। একদিকে বর্তমান আওয়ামীলীগের এমপি দবিরুলের ইমেজ সংকট অন্যদিকে উক্ত আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন স্বয়ং তার ছেলেসহ আওয়ামী লীগের হাফ ডজন নেতাকর্মী। এমন অবস্থায় এলাকাবাসী বিগত দুই নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যাবধানে হেরে জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হাকিমকেই নির্বাচনী দৌরে এগিয়ে রাখতে চান।

Comments

comments