জামায়াতের ঘাঁটি পাবনা-৫, বিজয়ে শতভাগ আশাবাদী মাও. ইকবাল

জামায়াত প্রার্থী মাও. ইকবাল

বিশেষ প্রতিবেদক: পাবনা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৫ আসন। পাবনার রাজনীতিতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। বরাবরই এই আসনটিকে জামায়াত তাদের ঘাঁটি মনে করে। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত তিন দলই এই আসনে কখনো না কখনো জয়ী হয়েছে।

৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম বকুল ও বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল আহসানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের মাও. আব্দুস সোবহান। ’৯৬-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একে খন্দকারকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল।

২০০১ সালের নির্বাচনে আবার এই আসনটি নিজেদের দখলে নেয় জামায়াত নেতা মাও. আব্দুস সোবহান। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে মাওলানা আব্দুস সোবহানকে হারিয়ে চমক দেখান আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক প্রিন্স। ২০১৪ সালে তিনি আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।

‘৯৬ সাল ছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে জোটগত জামায়াত প্রার্থী আর আওয়ামী লীগের মধ্যে। জামায়াত মনে করে এই আসনটি সারা দেশের মধ্যে জামায়াতের অন্যতম দুর্গ। ফলে জোটগত হোক আর একক ভাবে হোক;আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী নিশ্চিত বিজয় লাভ করবে বলে মনে করেন স্থানীয় ও কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ।

আর তাই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ক্লিন ইমেজের নেতা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইকবাল হুসাইনকে প্রার্থী ঘোষণা করে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে জামায়াত।

তাদের দাবি গত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে এই নেতা ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে এবং এলাকায় সামাজিক ও মানবকল্যাণমুলক কাজ করে ইতিমধ্যে তরুণদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনিই ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী জামায়াত।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বিএনপির কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকা এবং এই আসনটি আগে থেকেই জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে থাকায় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা ইকবালের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। শুধু তাই নয়, মাওলানা ইকবাল ক্লিন ইমেজের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন,এখানে জোটগত ভাবে কোন্দল না থাকায় এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। মাওলানা ইকবালের সততা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে জোটগত ভাবে তাকেই চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এই আসনটির বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা বলেন, জোটগত ভাবে দলীয় হাইকমান্ড কি করবেন আর কি করবেন না সেটা জানি না। তবে আমরা এ আসনে জোটের পক্ষ হতে যাকে দেয়া হয় তার সাথে থাকবো এবং তাকে নিয়েই কাজ করবো।

তবে খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এই আসনে ব্যক্তিগত ভাবে বিএনপির মনোনয়ন চায়। যদিও এলাকায় গিয়ে তার কোনো প্রচারণা এই প্রতিবেদকের চোখে পড়েনি।

এদিকে সদর আসনে আওয়ামীলীগ চায় যেকোনো মূল্যে জামায়াতের দূর্গে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে। বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। তবে এবার আর তিনি একা নন। প্রিন্সকে ছাড় দিতে নারাজ দলের তরুণ ও প্রবীণ নেতারা। কারণ সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তার এবং তার অনুসারীদের কাজ-কর্মে ক্ষুব্ধ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। আর তাই এই নেতাকে পড়তে হচ্ছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। এ আসনে প্রিন্সকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে আছেন অর্ধডজনের বেশি প্রার্থী। তারা প্রিন্সকে উপেক্ষা করে নৌকার মাঝি হতে ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রিন্সকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সদর উপজেলার পর পর দুইবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মোশারফ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এডওয়ার্ড কলেজের সাবেক ভিপি সোহেল হাসান শাহিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহসম্পাদক খ ম হাসান কবির আরিফ, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমের ভায়রা ভাই এম সাইদুল হক চুন্নু, দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা ফজলুল হক মন্টু, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব হাসান টিপু ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন।এরা সবাই মনে করেন তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন আর না পেলে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন,তবুও প্রিন্সকে ছাড় নয়।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী দল। তবে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই সদর আসনে যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবেন।’

আওয়ামীলীগের এমন প্রকাশ্য দলাদলিতে সম্ভাব্য ২৩দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন,নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নাই। দলীয় সভানেত্রী যাকে প্রার্থী করবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো।

আওয়ামীলীগের কোন্দল,জোটগতভাবে মনোনয়ন এবং নিজেদের নির্বাচন প্রস্তুতির বিষয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাও ইকবাল হুসাইন বলেন,জোটগত ভাবে হোক আর এককভাবে হোক আগামী নির্বাচনে পাবনা-৫ আসনে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত,ইনশাআল্লাহ। সারা দেশের মধ্যে যদি জামায়াত দুইটি আসনও পায় সেটির একটি হবে পাবনা সদর আসন।

পাবনা-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার। যার মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার নারী ভোটার।

Comments

comments