‘ইভটিজিং’ : জাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলি, আহত ৩০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করেছে। এতে দুই গ্রুপের অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী মোড়ে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে মীর মশাররফ হোসেন হলের দুই ছাত্রলীগ নেতা।

ভুক্তভোগী ছাত্রী আল বেরুনী হলে অবস্থানকারী তার বন্ধুদের এ ঘটনা জানান। এ সময় আল বেরুনী হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী এসে উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাত ১২টার পর শুরু হয় আল বেরুনী হল আক্রমণের ঘটনা।

এ সময় মীর মশাররফ হোসেন হলের ৬০-৭০ নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আল বেরুনী হলের সামনে অবস্থান নেয়। তারা আল বেরুণী হল লক্ষ্য করে কাচের বোতল, ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

এ পর্যায়ে আল বেরুনী হলের নেতাকর্মীরা তাদের পাল্টা আক্রমণ করলে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক কর্মী অস্ত্র উঁচিয়ে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে ছুড়তে পিছু হটে।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় হলের অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ৭ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল বলে মেডিকেল ভর্তি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪২ ব্যাচের মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ নেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আর সংঘর্ষের শেষপর্যায়ে গুলি ছুড়েছিল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সামিন ইয়াসির শাফিন। তিনি ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে ছাত্রলীগ

আল বেরুনী হলে প্রত্যক্ষদর্শী ও আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতাকর্মীরা তাদের হলে আক্রমণকালে পিস্তল, রামদা, রড, পাইপ, হকিস্টিক, কুড়াল ও ক্ষুর ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি আঘাত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যায়।

Comments

comments