কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদসহ ৩২ ছাত্রের জামিন

সালেহা বেগম তাঁর ছেলের বউ রাবেয়া খাতুনকে জড়িয়ে ধরে নির্বাক রইলেন। তখন দুজনের চোখ দিয়ে লোনা জল গড়িয়ে পড়ছিল। সালেহা দুহাত ওপরে তুলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার বাবা জামিন পেয়েছে…। এবার বাবাকে নিয়েই বাড়ি ফিরব।’

সালেহা বেগম কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা। ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঝিনাইদহ থেকে ঢাকায় আসেন। এর মধ্যে এক দিনের জন্যও বাড়ি যাননি। রাশেদের মতো কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ১৮ জন ছাত্র আজ সোমবার জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া আরও ১২ ছাত্রের জামিন দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

এর আগে গতকাল রোববার ঢাকার আদালত থেকে জামিন পান আরও ৩২ জন ছাত্রসহ ৩৯ জন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের এসব মামলা হয়েছিল রাজধানীর শাহবাগ ও রমনা থানায়।

গত ১ জুলাই দুপুরে মিরপুর-১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের বাসা থেকে রাশেদকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরে শাহবাগ থানায় করা আইসিটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। মামলাটি দায়ের করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়। এছাড়া বাকি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্য পালন ও সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং নাশকতার অভিযোগ করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মামলায় জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন- রাশেদ খাঁন, তরিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, জসিম উদ্দিন, মশিউর রহমান সোহেল, সাখাওয়াত হোসেন, মাসুদ আলম, আবু সাঈদ, ফজলে রাব্বী, রাকিবুল হাসান, আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান, আলী হোসেন, মাসুদ সরকার, রাকিবুল হাসান, ইউসুফ চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম তৌহিদ, আলমগীর হোসেন ও মাহবুবুর রহমান। এদের মধ্যে রাশেদ খাঁনসহ কয়েকজন একাধিক মামলার আসামি।

৮ জুলাই কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কথিত মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৫ দিন এবং আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় ভাংচুরের অপর মামলায় রাশেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গেল ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এস এম কামরুল আহসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া আন্দোলনকারীরা রাস্তা বন্ধ করে টায়ার ও আসবাবপত্র জ্বালানো, নাশকতা, পুলিশকে মারধর ও কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।

Comments

comments