আবারও ভাইরাল কামরান-ইতি

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী দাবিদার ডালিয়া সুলতানা হেপী ওরফে ইতিকে নিয়ে আবারো আবারও সরগরম হয়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক। অনেক জনপ্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীই গতকাল ও আজ ‘ইতি ভাবী’ নিয়ে পোস্ট করেছেন। ২০১৩ সালেও এই ইস্যুটি ব্যাপক সামাজিক ভাইরাল হয়েছিল এবং সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।

ডালিয়া সুলতানা হেপীকে বদরুদ্দিন কামরান আদর করে ইতি বলে ডাকতেন, খবর যুগান্তরের। ২০১৩ সালের ৭ জুন সিলেট সিটির মেয়র প্রার্থী বদরুদ্দিন আহমদ কামরানকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক যুগান্তর। সেখানে উঠে আসে কামরান এর কথিত এই স্ত্রী নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত। তবে ফেসবুকে ভাইরা এই ‘ইতি ভাবী’ কামরানের স্ত্রী নাকি শুধুই রক্ষিতা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা কামরানের দ্বিতীয় স্ত্রীর বিষয়টি ২০১৩ সালে প্রথমবারের মত প্রকাশ্যে আসায় কামরানসহ তার পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

ঢাকায় কামরানের আরেক স্ত্রী আছেন এমন সংবাদ প্রায় সময় শোনা গেলেও তখনও পর্যন্ত সে স্ত্রীর সন্ধান কেউ পায়নি। কিন্তু ২০১৩ সালে ঢাকায় একটি দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়।

জানা যায়, ৫ জুন ২০১৩ বুধবার সকালে ঢাকার মহাখালী পুলিশ বক্সের কাছে একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-০১৫৮) অপর একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে দুই গাড়ি চালকের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হলে ঘটনাস্থলে আসেন বনানী থানার এসআই জাকির। তিনি বিষয়টি জেনে ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-০১৫৮ গাড়িটি থানায় নিয়ে যেতে চাইলে চালক জানান, এই গাড়িটির মালিক সিলেটের মেয়রের স্ত্রী ডালিয়া সুলতানা হেপী। এসময় এসআই জাকির উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

দৈনিক যুগান্তরের ঐ অনুসন্ধানে জানা যায়, ডালিয়া সুলতানা হেপী তৎকালীন সদ্য বিদায়ী মেয়র কামরানের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায় ১০ বছর আগে কামরান প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এক সন্তানের জননী ডালিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি হেপীকে আদর করে ইতি বলে ডাকতেন। ডালিয়া ঢাকার ওয়ারীর ৮ র‌্যাংকিং রোডের ফরচুন টাওয়ারের সাউথ ভবনের ৬ বি ফ্ল্যাটে মেয়েকে নিয়ে থাকেন। ফ্ল্যাটটি কামরান তাকে কিনে দিয়েছেন। ঢাকায় ডালিয়ার নামে দোকান, প্লট ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। কামরান যখনই ঢাকায় যান বেশিরভাগ সময় ওয়ারীতে ডালিয়ার বাসায় ওঠেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দলীয় কয়েকজন নেতা, কামরানের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ী এ বিষয়টি জানেন। তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলেন ডালিয়া। ওয়ান ইলেভেনের সময় কামরান গ্রেফতারের পর তার প্রথম স্ত্রী আসমা কামরান বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন মনোমালিন্য চলে কামরানের। কামরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ডালিয়ার গ্রামের বাড়ি দোহার উপজেলায়। তার পিতাও একজন আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। এর আগে ডালিয়ার একটি বিয়ে হয়েছিল। ১৫ বছর বয়সের তার একটি মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ‘ঘটনাচক্রে’ কামরানের সঙ্গে পরিচয় হয় ডালিয়ার। এরপর তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে একপর্যায়ে ডালিয়াকে বিয়ে করতে বাধ্য হন কামরান।

এদিকে দৈনিক যুগান্তরের এই খবর নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে চলছে ব্যাপক হাস্যরস। অনেকেই এটা নিয়ে ট্রল করছেন। কয়েকদিন আগে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের সহায়তা চান বদরুদ্দিন কামরান। সে ঘটনাকে সামনে নিয়ে অনেকেই কথিত ‘ইতি ভাবী’ কে আলোচনায় আনছেন বলে জানা গেছে।

Comments

comments