ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদের নাম এমএলএম ব্যবসা!

বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে বসে জালিয়াতি চক্র বিভিন্ন কৌশলে এমএলএম কোম্পানির নামে প্রবাসে কর্মজীবী মানুষের সাথে এবং বিদেশিদের সাথে প্রতারণা করে আবারও পথে বসানোর চেষ্টা করছে।

প্রতারণা যেন পিছু ছাড়ছে না মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর,সৌদি আরব, দুবাই সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি কর্মীদের, অতি দ্রুত অর্থ উপার্জনের জন্য ফাঁদে পা দিয়ে পথে বসেছে অনেকেই কিন্তু প্রতারণার মাস্টার মাইন্ডরা সব সময় থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘এমএলএম এর নামে প্রতারণা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রচারিত হলে সরকারের টনক নড়ে? সাধারণ মানুষ যাতে এমএলএম নামধারী ইউনিপে, স্পিক এশিয়া, লাভিং টাচ, এনলাভিং, এমিটাচ ও ফাইটোসাইন্স এর মত বিনিয়োগ সর্বস্ব মানিগেম কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রতারিত না হয় সেজন্য জাতীয় সংসদে এমএলএম বিল ২০১৩ উত্থাপিত হয়। ডাইরেক্ট মার্কেটিং এর নামে কেউ যদি এ জাতীয় মানিগেম কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রতারিত হয়, তবে তার জন্য কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেই প্রণীত হয় এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইন।

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির ফাঁদে পড়ে যেসব নিরীহ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন, তারা তাদের কী পরিমাণ অর্থ ফেরত পেয়েছেন এটি এক বড় প্রশ্ন? এক্ষেত্রে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত। অনেক শিক্ষিত মানুষও এসব কোম্পানির ফাঁদে পড়েছেন।

এমএলএম কোম্পানির পরিচালনার সঙ্গে যারা যুক্ত তারা যে অতি ধূর্ত প্রকৃতির, এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত অর্থ যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজে ফেরত পান সেজন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া দরকার। গণমাধ্যমে বারবার প্রতিবেদন প্রকাশের পরও এমএলএম কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা সচেতন না হওয়ায় এসব বিনিয়োগকারীর অজ্ঞতার স্তরটি স্পষ্ট। যখনি এমএলএম কোম্পানী গুলো নিয়ে নিউজ হয়েছে পরক্ষনেই দেখা গেছে কোম্পানী উধাও অফিস গুলো তালা মারা।

কাজেই নিরীহ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকার বিশেষ পদক্ষেপ না নিলে তাদের অনেকের হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা যে ক্ষীণ এটাও অনুমেয়।

Comments

comments