খ্রিস্টান নারীর ইসলাম গ্রহণ এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প

আমার বয়স যখন ২৬ বছরে পৌছায় তখন আমি ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি। আমি প্রত্যাবর্তন শব্দটি ব্যবহার করি কারণ মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, আমরা সকলেই মুসলিম হয়েই জন্ম গ্রহণ করি আর বড় হয়ে অন্য ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে উঠি এবং আবার যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি তখন মূলত আমরা ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তিত হই।

আমি মুক্তভাবে চিন্তা করে এমন একটি পরিবারে বড় হই। আমি এমন একজন যে কিনা প্রত্যেক ঘটনার কার্যকারণ এবং বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে। আমি অনুভব করি যে, পবিত্র কোরআন আমার বিশ্বাসকে আরো শক্তিশালী করেছে কারণ আমি এতে অনেক বৈজ্ঞানিক আয়াত খুঁজে পেয়েছি।

একবার আমি পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করা অবস্থায় আমার মায়ের নিকট ধরা পড়ে যাই এবং তাকে খুব বিমর্ষ দেখতে পাই। এর কয়েক মাস পর্যন্ত আমাদের দুজনের সম্পর্ক তলানিতে ছিল।

এর পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আমার ইসলাম চর্চা সম্পর্কে তার আসলে কিছুই করার নেই এবং তিনি এমনটি বুঝতে পেরে পবিত্র রমজান মাসের একদিনে আমাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললেন।

কষ্টের সময় এবং পরিবর্তন
আমার ইসলাম গ্রহণ এবং মুসলিম হয়ে যাওয়াটাকে মেনে নেয়া আমার মায়ের জন্য আসলেই কষ্টকর একটি বিষয় ছিল। মুসলিমদের সম্পর্কে তিনি যা জানেন তা আসলে গণমাধ্যম সমূহের উপস্থাপিত ভুয়া খবর ছাড়া আর কিছুই না।

প্রথমে আমি আমার পিতা মাতাকে উপযুক্ত শব্দ এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বুঝাতে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু চূড়ান্তভাবে এসব আলোচনা তর্ক এবং ঝগড়ায় রূপ নিত।

এর পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, এভাবে আসলে কোনো কিছুর সমাধান হবে না। সুতরাং আমি সকলকে শান্ত করার জন্য গৃহ পরিত্যাগ করি।

একজন উপযুক্ত ব্যক্তি
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমার কার্যক্রমের মাধ্যমে আমি প্রমাণ করবো যে, ইসলাম আমাকে একজন সত্যিকারের মানুষ বানিয়েছে। আর সময়ের সাথে সাথে তার বুঝতে পারলো যে, আমি আসলে অনেক সম্মানের অধিকারী হয়েছি। আমি শান্ত ছিলাম কারণ আমি আত্মার শান্তি খুঁজে পেয়েছিলাম।

ইসলাম আমাকে ব্যাপক ভাবে আকৃষ্ট করেছে কারণ এটি খুবই সুন্দর একটি ধর্ম। এটি একই সাথে আমাকে শান্তি দিয়েছে এবং আমার মনকে শান্ত করেছে।

যখন সিঙ্গাপুরে ধর্মীয় সহমর্মিতার বিষয়টি দেখি তখন আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান অনুভব করি। এখানকার মানুষ জন সকলকে তাদের হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করে নেয়।

তথাপি, যখন ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টি সামনে এসে দাঁড়ায় তখন আমি মনে করি, এখানে এমন অনেক লোকজন রয়েছে যাদের কিছুটা উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

যখন আমি লোকজনদের বলি যে, আমি একজন প্রত্যাবর্তন কারী, তখন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই লোকজন অবাক হয়েছে এমন প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই।

মাঝে মধ্যে চীনা নাগরিকদের নিকট থেকে আমি অনেক সময় বাহ্যিক কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হই।

তারা আমাকে এমন অনেক ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে:

‘তুমি কি জান না যে, তুমি আর কখনো শুকরের মাংস খেতে পারবে না? তুমি কি জান যে, তোমার স্বামী চার জন স্ত্রীকে বিবাহ করতে পারবে? তুমি কি জান, এটি খুবই সহিংস একটি ধর্ম?’

কিন্তু আমি প্রতিক্রিয়ায় তাদের উদ্দেশ্যে হাসি দিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাই।

পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত আমার খুবই প্রিয়: ‘দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহি থেকে পৃথক হয়ে গেছে।’- পবিত্র কোরআন, সুরা: ২, আয়াত: ২৫৬।

আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই এমন জ্ঞান এবং সামর্থ্য দেয়া হয়েছে যে, তারা বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজদের জীবনে তার কি চায় সে সম্পর্কে নিজেদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি ধর্মের বা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।

যদি আপনি চান না যে, লোকজন আপনার জন্য সিদ্ধান্ত না নিক তখন অন্যের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নাক গলানো আমাদের উচিত হবে না।

লোকজনদের এটি বুঝতে হবে যে, কোনো ধর্ম বা বর্ণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মানমন্দির নেই। সকলকে গ্রহণ করে নেয়ার ক্ষমতা সহমর্মিতার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমেই আমরা এ পৃথিবীকে একটি সুখী বাসযোগ্য স্থান হিসেবে তৈরী করতে পারবো।

সূত্র: এবাউটইসলাম ডট নেট।

Comments

comments