প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ক্রাইস্টচার্চ হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় মসজিদে হামলার সময় মসজিদেই ছিলেন মাহমুদ নাসির। পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন: আমাদের বক্তৃতা তখনই শুরু হয়েছিলো, তিন চার মিনিট, গুলির আওয়াজ শুনলাম, আর সেটা ভবনের মূল ফটক থেকে। সবাই নিজেদের রক্ষা করতে পেছনের দরজার দিকে পালাচ্ছিলো। প্রথমে আমরা গাড়ির পেছনে লুকিয়েছিলাম, কেউবা গাড়ির নিচে। তারপর যখন দেখলাম গুলি চলছেই, আমরা দেয়াল পার হওয়ার চেষ্টা করলাম। সেটা পার হয়ে মসজিদের পাশের একটা বাড়িতে লুকালাম। তখনও গুলি চলছে। একজনকে দেখলাম হাতে বুলেটবিদ্ধ। গুলি যখন বন্ধ হলো, আমি প্রাচীরের উপর থেকে তাকিয়ে দেখলাম, একজন বন্দুক বদলাচ্ছে এবং আরেকজনের সঙ্গে কথা বলছে পরে আবার গুলি শুরু করলো।

বন্দুক বদলানোর ঘটনা নিশ্চিত হতে চাইলে মাহমুদ নাসির বলেন: হ্যাঁ, আমার মনে হয় সেই লোকটাই ছিলো। কিন্তু বুঝতেই পারছেন অনেক দুশ্চিন্তা আর ভয়ে ছিলাম। আমার স্ত্রী আর চার বছরের সন্তানও ভেতরে ছিলো। পরে জানলাম আমার বন্ধুরা আমার স্ত্রী সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তারা সুস্থ আছে। তারপর পুলিশ এসে আমাদের পথ দেখিয়ে বাইরে আসতে বলে। কিন্তু আরো ১০-১৫ মিনিট আমরা সেখানেই ছিলাম। অনেককে আহত, হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখলাম। এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখলাম রাস্তায়। কতজন মারা গেছে জানিনা। পাশে আরেকটা মসজিদেও হামলা হয়েছে শুনেছি। আমি নিশ্চিত নই।

তবে প্রার্থনার জায়গায় এই ধরনের হামলার পরও নাসিরের বক্তব্য: জায়গা ভালো না খারাপ তা বলা যাবে না, তবে খারাপ মানুষ যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে। এটা আসলে ধর্মের না, সমাজের ব্যাপার। একজন খারাপ মানে যেমন পুরো সমাজটা খারাপ নয়, তেমন একজন ভালো মানেও, পুরো সমাজটা ভালো নয়।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে ‘ব্রেনটন টেরেন্ট’ একাউন্টের ১৭ মিনিটের একটি লাইভ ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে হামলাকারীকে মসজিদে ঢুকে মুসল্লীদের উপরে নির্বিচারে গুলি করতে দেখা গেছে। ফুটেজে দেখা যায় কালো পোশাক পড়ে অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে হামলা করে ওই হামলাকারী। হামলা শেষে হামলাকারী একটি গাড়িতে করে চলে যায়।

ঘটনার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিল। একজন আহত মহিলা মসজিদে ঢুকতে সাবধান করায় প্রাণে বেঁচে যান তারা। তবে ওই হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। একজন ড. আব্দুস সামাদ, তিনি কৃষিবিদ ও নিউজিল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আরেকজন হোসনে আরা, তিনি গৃহবধু ও ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় বাসিন্দা।

Comments

comments